ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি অচিরেই দেশে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী এবং “মাথা উঁচু করেই” দেশে ফিরবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তার দল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে একাধিকবার তার প্রাণনাশের চেষ্টা হলেও রাজনৈতিকভাবে তাকে বা তার দলকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, তিনি বিশ্বাস করেন আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, এবং সেই কারণেই তিনি ভবিষ্যতে দেশে ফিরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চান।
দলের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিহাসে যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছিল, তেমনি এবারও একই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, নানা চাপ ও বাধার মধ্যেও দল আরও সুসংগঠিত হয়ে ফিরবে এবং সেই প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নীরবে চলছে।
বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা কেউ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেননি; বরং অনেকেই জীবনের নিরাপত্তার কারণে বিদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বহু নেতাকর্মী মামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং বিদেশে থাকা নেতারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই “ভারতপন্থি” হওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও বাস্তবে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তির প্রমাণ নেই। তিনি গঙ্গা পানি চুক্তি, সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং স্থলসীমান্ত চুক্তির মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তার সরকার সবসময় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।