নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর পড়ায় বেতন সমন্বয়ে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। এ ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে একই হারে দ্বিতীয় ধাপের সমন্বয় যুক্ত হয়ে দুই বছরের মধ্যে পূর্ণ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে।
তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এসব সুযোগ-সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ধাপে ধাপে চালু করা হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যমান ভাতা ও সুবিধা বহাল থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সব সুবিধা একসঙ্গে চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব আয় ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।
সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলেও সে অনুযায়ী বেতন সমন্বয় হয়নি।
অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জ–এর চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে স্কেল কার্যকর করা প্রয়োজন ছিল। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।
জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা আসতে পারে।
এদিকে, পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এছাড়া ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশনভোগীদের জন্য ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে পেনশনভোগীরা কতটুকু সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।