বাংলাদেশে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাম-জনিত শিশুমৃত্যুর পর ১০ লাখের বেশি শিশুর জন্য টিকাদান শুরু হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হামের সন্দেহে অন্তত ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে ১৭টি হামজনিত।
সরকার টিকাদানের বয়স কমিয়ে ৯ মাস থেকে ৬ মাস করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও এবং গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (Gavi) এর সহায়তায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে এবং ৩ মে থেকে তা সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।
এদিকে রাজধানী ঢাকা ও কক্সবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকা পাননি বা গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, “হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সবচেয়ে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলছে। টিকাদানের ঘাটতি স্পষ্ট।” সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশিদ বলেন, আক্রান্ত ও মৃত শিশুর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেশি, যার পেছনে টিকাদান ও অন্যান্য ব্যবস্থা ব্যর্থতা অন্যতম কারণ।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসপ্রশ্বাস, কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। প্রথমে সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, কয়েক দিনের মধ্যে মুখ ও কানের পেছন থেকে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।