যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সোমবার (২৪ আগস্ট) তেহরান সফর করছেন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আটকে থাকা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ফের সচল করাই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মুনিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে গিয়ে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। চলতি বছরে এটি মুনিরের তৃতীয় ইরান সফর। সফরের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে তার দুই দফা ফোনালাপও হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান এরই মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে। জুনে ইসলামাবাদের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হলেও পরবর্তী সময়ে আলোচনা থমকে যায়। ফলে নতুন করে সংলাপের পথ তৈরি করতে মুনিরের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ মনে করছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের যোগাযোগ থাকায় পাকিস্তান একটি কার্যকর যোগাযোগের সেতু হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারীদের তুলনায় পাকিস্তানের প্রভাব সীমিত।
এবারের সফরে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইয়েমেনের হুতি হামলা এবং পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও আলোচনায় আসতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে আসিম মুনিরের তেহরান সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোচনার পথ খুলতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকছে।