যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না ইরান। চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসানই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইরানি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে—সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামানোর কোনো উদ্যোগ তারা গ্রহণ করবে না। বরং যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা চায় তেহরান।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
আরাগচি আরও বলেন, যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুই ক্ষেত্রেই ইরান নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষায়, শুরুতে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানানো হলেও পরে প্রতিপক্ষকেই আলোচনার পথে আসতে হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সাদা পতাকা’ তুলে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তেহরান জানিয়েছে, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে তাদের কাছ থেকে নতুন কোনো ছাড় আদায় করা সম্ভব হবে না।
৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা স্থায়ী সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে তেহরান মার্কিন নৌ অবরোধ মোকাবিলায় ‘সময়োপযোগী ও সুনির্দিষ্ট’ পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরাগচি কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ইসরাইলকেও দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, ইসরাইল শুরু থেকেই যেকোনো সমঝোতা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ইরান এখন আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।