ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে ব্যাপকভাবে পড়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে প্রত্যক্ষ সামরিক ক্ষতির বাইরে চীন ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ এ পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত বিজয়ের আশা প্রকাশ করলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। দুই মাস ধরে চলমান এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে ইরান ও লেবাননের মানুষ।
সংঘাতের কারণে ইরানে ব্যাপক হামলায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। একইভাবে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননেও এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে কাতার, কুয়েত ও ইরাকের তেল-গ্যাস রপ্তানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া পরিস্থিতি থেকে তুলনামূলকভাবে লাভবান হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। উচ্চ তেলের দামে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। অস্ত্র শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে।