পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশু শিক্ষার্থীদের তেঁতো স্বাদের ডিম সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানানো হলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
রোববার (১৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নষ্ট ডিম নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রতনদী তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে রুমান বলেন, সকালে ডিম বিতরণের পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই তা খেতে পারেনি এবং তেঁতো স্বাদের অভিযোগ করে ফেরত দেয়। তিনি নিজেও ডিম পরীক্ষা করে একই স্বাদ পান বলে জানান। পরে আশপাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোলখালী ইউনিয়নের সুহরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিনাস চন্দ্র হাওলাদার অভিযোগ করেন, সরবরাহকৃত রুটি ও খাবারের মানও নিম্নমানের। শিক্ষার্থীরা তা খেতে অনীহা প্রকাশ করছে এবং অনেক সময় অল্প খেয়েই ফেলে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খাবারের আকার ও মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নয়।
অন্যদিকে সাংবাদিক আবদুল গনি মিয়ার সঙ্গে কথা বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্মিথ জেরিন সাগর জানান, সরবরাহ করা রুটির স্বাদহীনতা ও নিম্নমানের কারণে শিক্ষার্থীরা তা গ্রহণ করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজনু মোল্লা বলেন, গত সপ্তাহেও খাবার সরবরাহে অনিয়ম দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ে না এনে বিকেলে খাবার বিতরণ করায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আজকের ঘটনায় কয়েকটি স্কুল থেকে নষ্ট ডিমের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা তা আমলে নিচ্ছে না।
এদিকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পটুয়াখালী জেলা ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সোমবার সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলো পরিদর্শন করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।