বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, একটি পক্ষ মামলা থেকে নাম সরিয়ে দেওয়ার জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা এই টাকা দাবি করছে তারা সম্ভবত বুঝতে পারছে না যে, মামলায় বাদীপক্ষ চাইলেই কারও নাম প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়।
তবে কারা এই অর্থ দাবি করেছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
প্রস্তাবের জবাব প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, যারা টাকা দাবি করছেন তারা হয়তো ধরে নিয়েছেন তার কাছে প্রচুর অর্থ আছে এবং চাইলেই তিনি তা দিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি এমন কোনো পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করতে চান না বলে জানান। তার মতে, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো তিনি ভিত্তিহীন মনে করেন। তিনি চাইলে দেশে ফিরতে পারেন, তবে নিরাপত্তার বিষয়টিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থাকা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে বর্তমানে দেশে ফেরা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে তিনি ভীত নন, তবে হঠাৎ করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা ‘মব’ সৃষ্টির শঙ্কা তাকে উদ্বিগ্ন করে। এ ধরনের পরিস্থিতি না থাকলে তিনি দেশে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানান।
জাতীয় দল নিয়ে নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে সাকিব আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তিনি মনে করেন এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো সক্ষমতা তার রয়েছে, বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে অবদান রাখার সুযোগ তিনি দেখতে পান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় সাকিব আল হাসানের নামও আসে। তবে শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই—তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত।