সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। সরকারের এই নিয়মিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন ঘাটে এখন সারি সারি ট্রলার নোঙর করা অবস্থায় পড়ে আছে, থেমে গেছে মাছ ধরার স্বাভাবিক কার্যক্রম।
উপজেলার পানপট্টি, বোয়ালিয়া, বদনাতলী ও উলানিয়া ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো অলসভাবে পড়ে আছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরতে বাধ্য হয়। এ সময় জেলেরা কেউ নতুন জাল তৈরি করছেন, কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ বা সময় কাটাচ্ছেন আড্ডায়।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন হাজারো জেলে পরিবার। সরকারি ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় গলাচিপা উপজেলায় ১১ হাজার ৮৪৭ জন জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই এখনো সেই সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় জেলে মো. বাবুল বলেন, মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ না জানায় তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার অভিযোগ, সরকারি চাল না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে আছেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন জেলে শুক্কুর। তিনি জানান, কার্ড থাকলেও এখনো কোনো সহায়তা পাননি, ফলে আট সদস্যের পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন।
অন্যদিকে, খাদ্যসহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন অনেকে। জেলে শাহজাহানের দাবি, কার্ড পেতে তাকে টাকা খরচ করতে হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পছন্দের লোকদেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে তালিকাভুক্ত সব জেলে সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আয়ের উৎস বন্ধ থাকায় সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন জেলে পরিবারগুলো। দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে এই সংকটময় সময়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।