বিশ্বকাপের টানা তিন সপ্তাহের উত্তেজনা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। তবে শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এবার তাদের দিতে হবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায়। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের জন্য অপেক্ষা করছে আরলিং হালান্ড।
শনিবার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের সবচেয়ে মূল ভরসা হালান্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার সর্বশেষ ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল।
চলতি বিশ্বকাপেও চার ম্যাচে চার গোল করেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন এই তারকা।
ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার মরগান রজার্স সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলেই বলেছিলেন, ‘হালান্ডকে কি কখনও কেউ পুরোপুরি থামাতে পেরেছে? আমার তো মনে হয় না। তবুও আমরা চেষ্টা করব।’
চলতি বিশ্বকাপে প্রতি ৯০ মিনিটে তার গড় টাচ মাত্র ২৪.৮, যা নিয়মিত খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম কম। তবুও সাত গোল নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসির পরেই অবস্থান করছেন।
তবে নরওয়ের শক্তি শুধু হালান্ড ও সাথে রয়েছে তারকা মার্টিন ওডেগার্ড,তাই শুধু হালান্ডকে আটকে রাখলেই হবে না, ওডেগার্ডকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ইংল্যান্ডকে।
নরওয়ের রক্ষণভাগ খুব একটা ভালো নয় পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করলেও তারা হজম করেছে ৯টি গোল। বিশেষ করে ডান প্রান্ত দিয়ে আসা আক্রমণ ও ক্রস ঠেকাতে বেশ ভুগেছে দলটি।
এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ইউরোর দুটি ফাইনাল এবং একাধিক নকআউট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির। অন্যদিকে নরওয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে। ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও দলগত শক্তি ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও, হালান্ড ও ওডেগার্ডের নরওয়ে যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে সক্ষম।
তাই শেষ চারের টিকিটের এই লড়াইয়ে টমাস টুখেলের দলের সামনে অপেক্ষা করছে তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
এছাড়াও জানা গেছে, মায়ামির আবহাওয়া খুব একটা ভালো নয়। খেলা শুরুর সময় তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে টুখেলের উচ্চ মাত্রার প্রেসিং ফুটবল কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিও দেখার বিষয়।