চলতি বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর দলটিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে আফ্রিকার দেশটি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শেষ ষোলোর ম্যাচে পরাজয়ের পর মিশরের কোচ হোসাম হাসান দাবি করেন, তার দল ম্যাচে ন্যায্য বিচার পায়নি। আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখার জন্য কিছু সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রেফারিং কর্মকর্তাদের বিশ্বকাপের বাকি অংশ থেকে সরানোর জন্য ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার পক্ষে যেমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তেমনি রয়েছে ভিন্ন চিত্রও। বিবিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের মধ্যে ফাউলের তুলনায় কম হলুদ কার্ড পাওয়া দলগুলোর একটি আর্জেন্টিনা। ৫৯টি ফাউলের বিপরীতে দলটি পেয়েছে মাত্র তিনটি হলুদ কার্ড।
এদিকে পেনাল্টি পাওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত তারা তিনটি পেনাল্টি পেয়েছে, যদিও এর মধ্যে দুটি কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের ড্র নিয়েও আলোচনা চলছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডকে আলাদা কোয়ার্টারে রাখা হয়েছিল, ফলে সেমিফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল না।
এ ছাড়া ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে পুরো অন-ফিল্ড রেফারিং প্যানেলে আর্জেন্টিনার কর্মকর্তারা থাকায় নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। তবে ফিফা জানিয়েছে, রেফারি নিয়োগে জাতীয়তার চেয়ে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
লিওনেল মেসিকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তার একটি ট্যাকলের ঘটনায় কোনো কার্ড না দেখানো হলেও, একই ধরনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনকে ভিএআর পর্যালোচনার পর লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল বলে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কিছু সিদ্ধান্ত ও ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও, দলটি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে কি না—এ নিয়ে ফুটবল মহলে চলছে নানা আলোচনা।