আফ্রিকান ফুটবলের নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া দলটি এবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
তবে মরক্কোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী গল্প। বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের দলে মাত্র সাতজন ফুটবলারের জন্ম মরক্কোতে। বাকি ১৯ জন জন্মেছেন ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। তাদের অধিকাংশই দ্বৈত নাগরিকত্বধারী, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করছেন নিজেদের শিকড়ের দেশ মরক্কোর হয়ে।
মরক্কোতে জন্ম নেওয়া সাত ফুটবলার হলেন— আজেদ্দিন উনাহি, আহমেদ রেদা তাগনাউতি, মারওয়ান সা’দান, ইউসুফ বেলাম্মারি, সুফিয়ান রহিমি, আমিন এসবাই এবং আয়ুব এল কাবি।
অন্যদিকে স্পেনে জন্ম নেওয়া ছয় ফুটবলারের মধ্যে অন্যতম দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। এছাড়া ব্রাহিম দিয়াজ, ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা ইসমাইল সাইবারি এবং ডিফেন্ডার চাদি রিয়াদের জন্মও স্পেনে।
ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন ইসা দিয়োপ, আইয়ুব বুয়াদ্দি ও গেসিম ইয়াসিন। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন সোফিয়ান আমরাবাত, আনাস সালাহ-এদ্দিন এবং নুসাইর মাজরাউই।
এছাড়া বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন বিলাল এল খান্নুস, চেমসদিন তালবি এবং জাকারিয়া এল ওয়াহদি।
মরক্কোর অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর জন্ম কানাডার মন্ট্রিয়লে। তবে মাত্র তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি মরক্কোতে ফিরে আসেন। ফলে বেড়ে ওঠা এবং ফুটবলার হিসেবে বিকাশ ঘটেছে নিজ দেশেই।
শুধু খেলোয়াড়রাই নন, মরক্কো জাতীয় দলের কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির জন্মও বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। মরক্কান বংশোদ্ভূত হলেও তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বেলজিয়ামে। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতেও তিনি দেশটির বিভিন্ন ক্লাব ও বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।
দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলটি বর্তমানে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম বড় শক্তি। ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে বেড়ে ওঠা অভিজ্ঞতা এবং মরক্কোর প্রতি গভীর আত্মপরিচয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল। কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যের পর এবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিচ্ছে মরক্কো।