পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ আলোচনায় কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও না সরে আসায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কোনো চুক্তি ছাড়াই দেশে ফিরে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে এবং কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব, তা ইরানকে অবগত করা হয়েছে। তবে ইরান সেই শর্তগুলো গ্রহণ করেনি।
আলোচনার মূল অচলাবস্থা ছিল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু। ইরানের দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বৈধ অধিকার তাদের রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, এই সুযোগ দিলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে—এমন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে।
দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এমন সমঝোতা অর্জন করা সহজ নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। তার মতে, ইরানের উচিত তাদের বর্তমান অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা করবেন। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন।