এশিয়ার তেলের বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক ভাষণের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে শেয়ারবাজারও নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধ শেষ হবে কি না এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌপরিবহন স্বাভাবিক হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার শান্ত বা আশ্বস্ত হতে পারেনি। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা বা বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এই হুমকিও বাজারকে স্থির করতে পারেনি। হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বেশির ভাগ সামরিক লক্ষ্য পূরণ করবে এবং প্রয়োজনে ইরানের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তবে একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রয়োজনে সংঘাত বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ভাষণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি এবং শেয়ারবাজারে দরপতনের কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
গত এক মাসেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর ফলে এই সংঘাতের প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, জীবনহানি ঘটছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব বাজার এখনও সঙ্কটমুক্ত নয়।