দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইরাকের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা হলো। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে লায়নস অফ মেসোপটেমিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালুপের মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের দ্বিতীয় ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইরাক এই অর্জন করেছে।
ম্যাচের শুরুতেই আলি হামাদি প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে ময়েসেস পানিয়াগুয়ার সমতায় ফেরান বলিভিয়াকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে সাবস্টিটিউট মার্কো ফারজির ক্রস থেকে আয়মেন হুসেইন জিতে যাওয়ার গোলটি করেন।
ইতিহাস যেন ফের নিজেকে পুনরায় উপস্থিত করল। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ খেলেছিল ইরাক, যেখানে কিংবদন্তি আহমেদ রাধি গোল করেছিলেন। ঠিক ৪০ বছর পর একই মাটিতে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা, বিশেষ করে আলী জসিম, দেশকে বিশ্বকাপে ফেরার গৌরব দিয়েছেন।
ইরাক আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের সঙ্গে খেলবে। এভাবেই এশিয়ার নবম দল হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করল ইরাক। দেশটির একমাত্র আগের বিশ্বকাপ উপস্থিতি ছিল ১৯৮৬ সালে, যেখানে তারা গ্রুপ পর্বে সব তিনটি ম্যাচ হেরে ফিরে গিয়েছিল।
কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বলেছেন, দেশের কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা এমন এক গৌরবময় মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি। ফিফা বিশ্বকাপে আমাদের জয় শুধু ফুটবলের জন্য নয়, দেশবাসীর ঐক্য ও প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে থাকবে।