বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয় দীর্ঘদিনের গতি পথ পরিবর্তন করে সমন্বয়ের সঙ্গে নতুন পথে হাঁটতে যাচ্ছে। সরকার শিক্ষার প্রশাসনিক পৃথকীকরণ ভেঙ্গে একই টেবিলে বসাতে যাচ্ছে দুই মন্ত্রণালয়কে।
বাংলাদেশে এই প্রথমবারেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তব্য হস্তক্ষেপ করা হয়েছে দুজন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের কাছে। এতে করে, আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো থাকলেও এখন থেকে শিক্ষার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে একই টেবিলে। এই ‘এক কমান্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর অধীনে দুটি মন্ত্রণালয় পরিচালিত হওয়ায় নীতিনির্ধারণে অভিন্নতা আসবে। এরই মাধ্যমে প্রশাসনিক দূরত্ব কাটতে যাচ্ছে এবং শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সহজ হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নিয়ম কানুনের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব নিয়েই বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যাতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে গতি আসে। তিনি আরও বলেন, ফাইল জট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে তিনি কঠোর অবস্থানে থাকবেন। একইসঙ্গে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উভয় মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলই প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ‘স্ক্রিনিং’ বা পর্যবেক্ষণ ছাড়া সরাসরি মন্ত্রীর টেবিলে যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কোনো ফাইলই ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকবে না।
এ সময় একীভূত করার সিদ্ধান্তকে উপযুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা আলাদা থাকায় নীতিগত সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হতো। এখন একই ছাতার নিচে কাজ করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে, সবচেয়ে বড় সুফল আসবে কারিকুলাম ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। আগে দুই সচিবালয়ের ফাইল চালাচালিতে মাসের পর মাস নষ্ট হতো যা এখন ‘এক কমান্ড’-এর কারণে দ্রুত সমাধান হবে।
কিন্তু এই বিশাল কর্মব্যবস্থা সহজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ২ আলাদা সচিবালয়, আলাদা সচিব এবং হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একই মানসিকতায় নিয়ে আসা এবং দীর্ঘদিনের কাটানোটাও হবে অনেক জটিল।