কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ছাত্রশিবির কর্মী ও মসজিদের ইমামকে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। রবিবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তির নাম আসলাম উদ্দিন (২১)। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে এবং জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম। এছাড়াও তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ছাত্রশিবির কর্মী হিসেবে ৬টি ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে আহত ইমাম আসলাম উদ্দিন বলেন, রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলাম। লালনবাজার সংলগ্ন বাবুর স্কেল (কাট পরিমাপ যন্ত্র) এলাকায় পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে চার থেকে পাঁচজন লোক এসে আমার রাস্তা আটকিয়ে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধরক মারপিট করে দ্রুত চলে যায়। হামলাকারীদের মুখ বাঁধা ও মুখে মাস্ক পড়া ছিল।
এসময় তিনি নিজেকে ছাত্রশিবির কর্মী দাবি করে বলেন, সংসদ নির্বাচন ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে যদুবয়রার ৬টি কেন্দ্রের দাঁয়িত্ব ছিলাম। প্রতিপক্ষের লোকজন ভোটে হেরে গিয়ে হামলা চালাতে পারেন। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেনি।
যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ইমাম সাহেবের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার পিঠে, হাতে, পায়ের মাংসপেশি ও কপালে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুমারখালী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াদ আল মাহমুদ বলেন, গত রাতে আমাদের কর্মী আসলাম ভাই মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৫/৬ জন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুত্ব আহত করেছে। আসলাম উদ্দিন ছাত্রশিবিরের কর্মী সে নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, একজন মসজিদের ইমামের ওপর হামলার খবর পেয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।