গতকাল রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেড় বছরের আলোচিত-সমালোচিত শাসনকাল শেষের পথে; আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রার সমাপ্তি হবে। উপদেষ্টারা শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে উপস্থিত হবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে সেই একই গাড়িতে ফিরবেন, তবে তখন আর গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে না।
যদিও কাগজপত্রে উপদেষ্টাদের কর্মদিবস ছিল দেড় দিন, তবু গতকালই ছিল তাদের শেষ ব্যস্ত সময়। উপদেষ্টা বৈঠকের পাশাপাশি সচিবালয়ের নিজ নিজ দপ্তরে তারা মতবিনিময় করেছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেউ কেউ আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন। দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই উপদেষ্টাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।
২০০৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিলিয়ে চারজন, এবং প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও দায়িত্বে ছিলেন।
উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “অধ্যাপক ইউনূসের ডিকশনারিতে ‘রিটায়ার্ড’ বলতে কিছু নেই। শপথের পরও তিনি আগের মতো কাজ চালিয়ে যাবেন—সারা বিশ্বে সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কথা বলবেন, ক্ষুদ্রঋণ ও ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবেন এবং দারিদ্র্য কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ চালাবেন।”
অন্য উপদেষ্টাদের পরিকল্পনাও ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। অধ্যাপক আসিফ নজরুল আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরবেন এবং মৌলিক গবেষণা ও লেখালেখি করবেন। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষ হলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন। আলী ইমাম মজুমদার সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, যেমন আগে সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন এবং কিছুদিন বিশ্রামের পর লেখালেখিতে ফিরে যাবেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান রমজানের পর আবার লেখালেখি ও বই পড়ার কাজে মন দেবেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) কাজে যোগ দেবেন। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ব্রতীতে ফিরে যাবেন এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত কাজ চালাবেন। এছাড়া ২০০৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যুক্ত নারীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এভাবে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ দিন চিহ্নিত হলো শেষ কার্যদিবসের ব্যস্ততা, বিদায়ের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাধ্যমে—একদিকে শেষ অধ্যায়, অন্যদিকে নতুন দিগন্তের প্রস্তুতি।