দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরেছেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ। সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। বাংলার ইতিহাসের আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্র অনন্ত সিংহকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জিৎ।
মুক্তির আগেই সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। অনন্ত সিংহের জীবনের বিভিন্ন সময়কে পর্দায় তুলে ধরতে জিৎকে দেখা গেছে একাধিক ভিন্ন লুকে। তরুণ বয়সের বিপ্লবী থেকে পরিণত বয়সের অনন্ত—দুই চরিত্রায়নেই নিজের অভিনয় দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন তিনি।
সিনেমাটির অন্যতম শক্তিশালী দিক জিতের পর্দা উপস্থিতি। সংলাপ বলার ধরন, অভিব্যক্তি এবং অ্যাকশন দৃশ্যে তার শারীরিক পারফরম্যান্স গল্পে গতি এনেছে। বিশেষ করে দেশাত্মবোধের আবহে নির্মিত দৃশ্যগুলোতে তার অভিনয় দর্শকের আবেগকে স্পর্শ করার মতো।
অ্যাকশন দৃশ্যেও বড় ক্যানভাসে গল্প বলার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। কিছু দৃশ্যে দক্ষিণী সিনেমার প্রভাব থাকলেও তা পুরোপুরি বেমানান মনে হয়নি। তবে ঐতিহাসিক সময়কালকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নির্মাণের কিছু জায়গায় বাড়তি যত্নের প্রয়োজন ছিল।
গল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রও আরও গভীরভাবে তুলে ধরার সুযোগ ছিল। পার্শ্বচরিত্রগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলে অনন্ত সিংহের ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সময়ের টানাপোড়েন আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত। বিশেষ করে শেষভাগের আদালত পর্বটি আরও টানটান ও আবেগঘনভাবে নির্মাণ করা যেত।
জিৎ ছাড়াও টোটা রায়চৌধুরী, চন্দন সেন, কৌশিক সেন ও রজতাভ দত্তসহ অন্য অভিনয়শিল্পীরা নিজেদের জায়গা থেকে ভালো করেছেন। সিনেমার আবহসংগীত ও চিত্রগ্রহণও গল্পের সময়কাল এবং নাটকীয় পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
সব মিলিয়ে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ নিছক ইতিহাসের পুনর্কথন নয়। বরং অনন্ত সিংহের মতো এক বিতর্কিত ঐতিহাসিক চরিত্রকে কেন্দ্র করে বিনোদন, আবেগ ও অ্যাকশনের সমন্বয়ে বড় পর্দায় একটি জমকালো গল্প বলার চেষ্টা করেছে সিনেমাটি। আর সেই গল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন জিৎ।