বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিখ্যাত নির্মাতা তারেক মাসুদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘কাগজের ফুল’-এর শুটিংয়ের স্থান দেখে ফেরার পথে মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান।
তারেক মাসুদ তার ক্যারিয়ারের শুরু করেছিলেন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জীবন ও শিল্পকর্ম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘আদম সুরত’ নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় সাত বছর শিল্পীর সান্নিধ্যে ছিলেন তারেক মাসুদ।এরপর ১৯৮৯ সালে ‘আদম সুরত’ মুক্তির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রকার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
তবে দেশজুড়ে তারেক মাসুদের পরিচিতি আসে মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ ফুটেজনির্ভর প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে মার্কিন নির্মাতা লিয়ার লেভিনের ধারণ করা ১৯৭১ সালের ফুটেজের সন্ধান পান তিনি। পরে স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গে লেভিনের ফুটেজসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা উপকরণ নিয়ে নির্মাণ করেন ‘মুক্তির গান’।
জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’-এর পর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে চলচ্চিত্রটি বিবেচিত হয়। তারেক মাসুদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘মাটির ময়না’ মুক্তি পায় ২০০২ সালে। এরপর ‘অন্তর্যাত্রা’, ‘নরসুন্দর’ ও ‘রানওয়ে’ এর মতো কালজয়ী গল্পে জনপ্রিয়তা লাভ করেন তিনি। এছাড়াও ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তারেক মাসুদ। মাদরাসায় তার শিক্ষাজীবনের শুরু। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সাধারণ শিক্ষায় যুক্ত হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
মৃত্যুর আগে তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ করছিলেন। ছবিটির শুটিংয়ের স্থান নির্ধারণ করে ফেরার পথেই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। ফলে অসমাপ্ত থেকে যায় চলচ্চিত্রটি।