জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব আবুজর মো. ইজাজুল হক।
সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা গাজী নুর আলম, মো. ইমরান ওজুয়েল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাহেদ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ আতিকুরের মা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব জাকির মুন্সি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম খান এবং পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলির মুখেও আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে নিরস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকেই গুলিতে প্রাণ দিতে হয়। তার এই আত্মত্যাগ দেশের মানুষের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে সারাদেশের ছাত্র-জনতাকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, চরকাজলের রাসেল, দশমিনার জিহাদসহ গলাচিপা ও দশমিনার যেসব শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তারাই এ আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ছিলেন। দেশের স্বার্থে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি তুরস্কের ২০১৬ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংকটময় সময়ে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের জাতীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের সম্মান, সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
নুরুল হক আরও বলেন, আজ যারা জনপ্রতিনিধি বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের অবস্থানের পেছনে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের অবদান রয়েছে। তাই শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, টানা কয়েকটি বিতর্কিত ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েছে। এই অর্জন সমুন্নত রাখা, নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা সকল রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।