বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরানকে টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন লস অ্যাঞ্জেলসে বসবাসরত ইরানি-আমেরিকান মানবাধিকারকর্মী এবং কয়েকজন সাবেক ফুটবলার। তারা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার (১০ মে) লস অ্যাঞ্জেলস সিটি হলের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি কয়েকজন সাবেক জাতীয় ফুটবলারও অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালে তারা এমন ক্রীড়াবিদদের ছবি প্রদর্শন করেন, যারা সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২১ বছর বয়সী ইরানি-আমেরিকান রায়ান সালামি বলেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে দিলে বিশ্ববাসীর কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে দমন-পীড়ন, সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে ইরানের সাবেক ফুটবলার আসগর আদিবি বলেন, জাতীয় দলটি সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং এটি শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। তার দাবি অনুযায়ী, দলটির ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (IRGC) প্রভাব রয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদও দেখা গেছে। একাংশ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের ম্যাচে তারা ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব “সিংহ ও সূর্য” প্রতীকযুক্ত পুরনো জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের চেষ্টা করবেন, যদিও সেটি বর্তমানে নিষিদ্ধ।
বিক্ষোভকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান সরকার বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারে, যা দেশের ভেতরের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সবশেষে তারা ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশ্বকাপ থেকে দেশটিকে বাদ দেওয়ার দাবি আরও জোরালো করেন।
এ বিষয়ে এখনো ফিফা বা ইরান জাতীয় দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।