দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বিতীয়বার মা হওয়ার খবর প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সেই সঙ্গে সামনে এসেছে কয়েক বছর আগের কিছু সাক্ষাৎকারের বক্তব্য।
২০২২ সালে এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিত্রনায়ক শাকিব খান তার ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি বলেন, “একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে চাই, অপু বিশ্বাস ও বুবলী দুজনেই এখন আমার কাছে অতীত। তাদের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আমার সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই। অতীত মানে তারা অতীতই। তারা আমার দুই সন্তানের মা। সন্তানের মা হিসেবে তাদের প্রতি আমার যে সম্মান ও সম্পর্ক থাকা দরকার, স্রেফ সেটুকুই থাকবে।”
তবে এর দুই বছর পর, ২০২৪ সালে আরেকটি সাক্ষাৎকারে বুবলী জানান, তাদের বিচ্ছেদ হয়নি; বরং ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা কিছুটা সময় নিচ্ছেন।
সাক্ষাৎকারে বুবলী বলেন, ছেলে শেহজাদকে নিয়ে তিনি একাই অনেক সংগ্রাম করেছেন। তবুও সন্তানের বাবা হিসেবে কখনো শাকিব খানকে অসম্মান করেননি। প্রয়োজন হলে জবাব দিয়েছেন, অন্যথায় নীরব থেকেছেন।
তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া আগের চেয়ে ভালো হয়েছে এবং একসঙ্গে কাটানো সময়ও তারা উপভোগ করেন।
বুবলীর ভাষায়, “আমাদের দুজনের মধ্যে একটা মিল আছে। আমি যখন চুপচাপ থাকি, তখন একেবারেই চুপচাপ থাকি। আবার পরিবারের সঙ্গে থাকলে অনেক কথা বলি। শাকিব খানও সেটে বেশ চুপচাপ থাকেন, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে খুব আড্ডাবাজ। বিষয়টি আসলে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই একে অপরকে বোঝাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
মতবিরোধের প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, তিনি সবসময় ধৈর্যের পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, রাগ ভাঙানোর উদ্যোগ নিতেন শাকিব খান। তার মতে, “শাকিবের রাগ অনেক। রেগে গেলে তিনি চুপ হয়ে যান, তবে সেটা প্রকাশ করেন না। বুঝে নিতে হয়। বেশিরভাগ সময় রাগ ভাঙাতে শাকিবই এগিয়ে আসেন। কারও দাম্পত্য জীবন সুখের হলে সেখানে অন্য কেউ ঢুকতে পারে না।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ মে জন্ম নেয় বুবলীর কন্যাসন্তান শারলিন খান। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত শুক্রবার, যখন অভিনেত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শাকিব খানকে ট্যাগ করে একটি পোস্টের মাধ্যমে সুখবরটি জানান।
এর আগে, ২০২০ সালের ২১ মার্চ জন্মগ্রহণ করে তাদের প্রথম সন্তান শেহজাদ খান বীর।