ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তীব্র অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের গোপন মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জানায়, প্রণালিতে ইরানের স্থাপন করা মাইন অপসারণ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রায় থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান অত্যাধুনিক জিপিএস-নির্ভর মাইন ব্যবহার করছে, যা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত জটিল। এ কারণে প্রায় ১,৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান। পাশাপাশি মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই রুট খুলে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে ইরান।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোও এই পথ ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে। জার্মান শিপিং প্রতিষ্ঠান হ্যাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, নিশ্চিত নিরাপত্তা ছাড়া তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে না।
এ পরিস্থিতিতে লন্ডনে ৩০টিরও বেশি দেশের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের নিয়ে একটি বৈঠক শুরু হয়েছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা জোট গঠনের আলোচনা চলছে, যার উদ্দেশ্য যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা।
তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন পোস্টের এসব তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত না হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, সংঘাত শেষ না হলে বড় পরিসরে উদ্ধার ও মাইন অপসারণ অভিযান শুরু করা সম্ভব নয়।