হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
রোববার (৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ড জানায়, কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে হরমুজ প্রণালির বর্তমান বাস্তবতা আর আগের মতো থাকবে না—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেরাই। এতে বিদেশি প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণের যুগ শেষ হয়ে এসেছে বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আলটিমেটাম দিয়ে সতর্ক করেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অবকাঠামো—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া’ হতে পারে। একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ ও ‘ব্রিজ ডে’ উল্লেখ করে মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
তবে এসব হুমকির পরও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি ইরান। দেশটি এখনও হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। পাশাপাশি, এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্রানজিট ফি আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।