ফিলিপাইনে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাবে দেশজুড়ে শত শত পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ৩৬৫টি ফুয়েল স্টেশন কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নই এই সংকটের প্রধান কারণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব তেলের বাজারে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ কমে গিয়ে দেশটিতে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ফিলিপাইনে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং পরিবহন খাত মারাত্মক চাপে পড়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালাতে পারে—এমন খবরে সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে, যা আগের তুলনায় ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলার ৩০ সেন্টে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে তেল-গ্যাস খাতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামও বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯৮ ডলার।
পরিস্থিতি নিয়ে অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ নিউম্যান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ একটি চক্রের মধ্যে পরিচালিত হয়, ফলে সংকটের পুরো প্রভাব বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। তার মতে, ইউরোপীয় বাজারে এই প্রভাব পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও জানান, বাজার ধীরে ধীরে বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করতে শুরু করেছে এবং বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম ১২০ ডলার বা তারও বেশি পৌঁছাতে পারে।