তখন সেটিই ছিল সরাসরি পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীকে জানিয়ে দেওয়া একটি বলিষ্ঠ বার্তা-আমরা স্বাধীন হতে চাই। সেদিন দুপুরে ও রাতে যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিবালয়ে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল।
৫৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হয়। এই পতাকাকে সমুন্নত রাখতে গিয়েই পরবর্তীতে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আমাদের সেই বীরত্বগাঁথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। এই পতাকা আমাদের অহংকার, আমাদের প্রাণ।
তৎকালীন ডাকসু নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। ওই দিন এ পতাকা উত্তোলনটি শুধু একটি কাপড়ের টুকরো ওড়ানো ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার পথে আনুষ্ঠানিক অভিযাত্রা। আজকের এই দিনের ঘটনাই বাঙালি ছাত্র-জনতাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজের অধিকার বা স্বাধীনতা আদায়ের জন্য নতুনভাবে জাগ্রত বা উৎসাহিত হওয়া শেখায়।
দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে প্রথমবার ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনের প্রধান এম হোসেন আলী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নিষ্ঠা প্রকাশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ সকাল ১০টায় পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন করা হবে কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায়।অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক ভিপি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।