বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে যে শুল্কারোপ করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা বাতিল করেছে এ দেশের সুপ্রিম কোর্ট।
গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট কে এই আইনের মাধ্যমে শুল্কারোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
গতকাল (২০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের সূত্রানুসারে এ তথ্য জানা যায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে খুশি নন ট্রাম্প। নতুন করে সব দেশের ওপর ১০% অন্য আইনের মাধ্যমে শুল্ককারোপ করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা বলে মত দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা ‘জাতির জন্য অসম্মানের’। বিচারপতিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু বিচারপতির জন্য তিনি ‘সত্যিকারে লজ্জা বোধ করছেন’। বিচারপতিরা বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করেছে বাংলাদেশ তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানা ধরনের পণ্য আমদানির শর্ত রয়েছে। আর বাংলাদেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ১ শতাংশ কমে হয় ১৯ শতাংশ। পাল্টা শুল্কারোপের পর সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে। আদালতের রায়ে বাতিল শুল্ক এবং নতুন করে আরোপিত শুল্ক কত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও জানান ‘সেকশন- ওয়ান টুয়েনটি টু’ এর আওতায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর শুল্কের হুমকির মুখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, তার অনেকগুলো বহাল থাকবে। আলাদাভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করে চুক্তি বহাল থাকার কথা বলেন তিনি।
নতুন যে আইনের মাধ্যমে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছেন তা প্রথমবারের মত ব্যবহার হতে যাচ্ছে। এই আইনের অধীনে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্কারোপ করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সময়সীমা পার হলে এ ট্যারিফ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন হবে কংগ্রেসের অনুমোদনের।