রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী দলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে হত্যায় এক বিশেষ ধরনের ‘পয়জন ডার্ট ফ্রগ’ নামের এক প্রজাতি ব্যাঙের বিষ ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ ইউরোপীয় দেশ। ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘রাশিয়ায় বন্দী অবস্থায় নাভালনির ওপর এ বিষ প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয় সামর্থ্য, উদ্দেশ্য ও সুযোগ—সব শুধু রুশ সরকারেরই ছিল।
ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসসহ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ দাবি করেন, অ্যালেক্সি নাভালনির শরীরে ‘এপিব্যাটিডিন’ বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। তারা বলছে, অ্যালেক্সি নাভালনির কারাগারে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে।
দেশগুলো দাবি , ‘বন্দী অবস্থায় নাভালনির মৃত্যুর জন্য আমরা রাশিয়াকেই দায়ী করছি। এপিবাটিডিন সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার বুনো পরিবেশে থাকা বিষাক্ত প্রজাতির ব্যাঙের (ডার্ট ফ্রগ) শরীরে পাওয়া যায়। খাঁচায় বন্দী ডার্ট ফ্রগ এ বিষ উৎপাদন করে না এবং রাশিয়ায় এটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না।’
দক্ষিণ এবং মধ্য আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে এই ব্যাঙের বাস। বেশিরভাগ পয়জন ডার্ট ব্যাঙ উজ্জ্বল রঙের হয় যাতে সম্ভাব্য শিকারীদের তাদের বিষাক্ততা সম্পর্কে সতর্ক করা যায়। একসময় এদের ‘বিষ ব্যাঙ’ নামেও ডাকা হত।
এ দিকে রুশ দূতাবাস এ দাবিকে ‘আজগুবি গল্প’ এবং পশ্চিমাদের দুর্বল চিন্তাভাবনার বহি:প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে।