পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রক্তক্ষয়ী এই হামলার কিছুক্ষণ পরে এর দায় শিকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
হামলার ঘটনার জানার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকর্মীরা এবং নিরাপত্তাকর্মীরা এসে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩১ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৬৯ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নগর কর্মকর্তার সুত্রে জানা যায়, ইসলামাবাদের উপকণ্ঠ তারলাই এলাকায় অবস্থিত ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে হামলাটি ঘটে। শিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয় হলো এ মসজিদটটি। পাকিস্তানে সুন্নি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও শিয়া সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। এর আগেও বিভিন্ন সময় শিয়া সম্প্রদায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ তারকা ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর গতকালকের এই হামলাকে সবচেয়ে বেশি প্রাণনাশক হামলা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নামাজ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো মসজিদ কেঁপে উঠে। এক মুসল্লি ইমরান মাহমুদ এএফপিকে জানান, হামলার সময় হামলাকারী ও তার সহযোগীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তাকর্মীদের গোলাগুলি হয়। তিনি বলেন, হামলাকারী মসজিদের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় পেছন থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা গুলি চালালে তার ঊরুতে গুলি লাগে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। হামলার পর ইসলামাবাদ এবং এর আশেপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।