নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে আর কেউ জীবিত বা মৃত অবস্থায় নেই বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর আর কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা না থাকায় অভিযানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল শুক্রবার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। উদ্ধারকারীরা জানান, বন্যার পানির চাপে সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশ কাদা, মাটি ও পাথরে ঢেকে গেছে। এমনকি ওপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে।
গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যায় নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক আটকা পড়েন। দীর্ঘ নয় দিনের অভিযান শেষে ত্রিশূলীর একটি সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন নামে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও একজন শ্রমিকের মরদেহ।
উদ্ধারের পর সঞ্জয় জানান, বন্যার খবর পেয়ে অন্য শ্রমিকদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নিজেই সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন। নয় দিন সেখানে অবস্থান করে প্রার্থনা ও মন্ত্র জপ করে সময় কাটিয়েছেন তিনি। বেঁচে ফিরতে পারবেন, এমন আশা একসময় ছেড়েই দিয়েছিলেন। পরে সঞ্জয় ও কবীরকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়।
এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে আকস্মিক বন্যায় ১ হাজার ২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।