দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন সিইসি।
তিনি জানান, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে প্রকাশ্যে। ব্যালট পত্রে প্রার্থী ও ভোটারের নাম উল্লেখ থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা উপস্থিতদের কাছে জানা যাবে। তবে ভোটকক্ষ বা অধিবেশন কক্ষে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না।
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। গত ১৩ আগস্ট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটিই বৈধ ঘোষণা করা হলেও একই প্রার্থীর দুটি মনোনয়নপত্রের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন দুই প্রার্থী—ড. অলি আহমদ (বীরবিক্রম) ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
সিইসি জানান, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে। গণনার সময় সংসদ সদস্যরা কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন। ভোটদান ও ফল গণনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী এবারের নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশের বিশেষ নজরের মধ্যে হতে যাওয়া এই নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।