ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারকে বিশেষভাবে বিদায় জানাতে একটি বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো-এর এক প্রতিবেদনে সিবিএফ জানিয়েছে, বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ, প্রতিপক্ষ বা আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।
বর্তমানে নেইমারের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের চুক্তি রয়েছে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত। ফলে তিনি এখনই পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছেন না; কেবল জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন নেইমার। সে সময় তিনি বলেন, “ব্রাজিল জাতীয় দলে আমার সময় শেষ। এই জার্সির জন্য আমি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি এবং অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি। তবে এখন আর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই না।”
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচটিই ছিল ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের শেষ উপস্থিতি।
ব্রাজিলের হয়ে ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৩০টি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। এই সময়ে তিনি গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই অনন্য অবদান রেখে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এছাড়া চারটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা ৯টি।
বিশ্বকাপে মোট ১৪টি ম্যাচ খেলে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের সমান ম্যাচ খেলার কীর্তিও গড়েছেন নেইমার। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে স্বর্ণপদক জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি।
এদিকে, নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অবদানকে সম্মান জানিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা করছে সিবিএফ। যদিও কবে এবং কীভাবে সেই বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।