দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন সাপ্তাহিক পাঠদানের সময়সূচি চালু করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবেন, আর বাকি কার্যদিবসগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এ আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, শনি, সোম ও বুধবার সরাসরি ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে, এবং বৃহস্পতিবার ও মঙ্গলবার অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে। শুক্রবার যথারীতি সপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ বোর্ড পরীক্ষা প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় ব্যয় হলেও কর্মকর্তাদের সুবিধা হয়, শিক্ষার্থীরা কিন্তু প্রায় দুই বছরের শিক্ষাজীবন হারাচ্ছেন। তিনি তুলনা করে বলেন, “১২ মাস চাকরি করে আটটি বোনাস নেওয়া সম্ভব, কিন্তু শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, মেধাবী শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত না রেখে সরাসরি পাঠদানে নিয়োজিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পরিদর্শকের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে কঠোর নজরদারির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নিয়মও ঘোষণা করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে সেই প্রশিক্ষণ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসা কর্মকর্তাদের অন্তত তিন বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এছাড়া ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অব্যবস্থাপনার বিষয়েও মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথ লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়াই চলাচল করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, ‘ডিজিটাল নকল’ প্রবণতা মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।