২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে কঠোর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচিও পালন করা হবে।
রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সভা সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২৭ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বশেষ সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণমূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজন ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরবেন। এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে পুলিশ প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, পুলিশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলে গণহত্যা বিষয়ক বিরল আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আয়োজন বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে দেশজুড়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ওই দিন জোহরের নামাজের পর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।
এছাড়া, গণহত্যা দিবসের অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) ও জরুরি সেবার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে। ব্ল্যাকআউট বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ, পুলিশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।