যুদ্ধবিরতির পর গাজায় চলছে পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি। বিধ্বস্ত গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপ আর ভেঙে পড়া ভবনের পাশে ছোট ফানুস ও রঙিন বাতির মালা দিয়ে সাজানো হচ্ছে রাস্তা ঘাট। যা গাজার মানুষের ক্লান্ত মনকে একটুখানি স্বস্তি ও আশার আলো জাগিয়েছে। ইসলাম ধর্মের এই পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানাতে সীমিত সামর্থ্যেও ফিলিস্তিনিরা চেষ্টা করছে উৎসবের আবহ ফিরিয়ে আনতে। ঐতিহাসিক ওমারি মসজিদে মুসল্লিরা শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ভারী জ্যাকেট গায়ে দিয়ে প্রথম রমজানের ফজরের নামাজ আদায় করেন।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজা শহরের পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি শরণার্থী শিবিরে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
গাজা শহরের বাসিন্দা আবু আদম বলেন, দখলদারিত্ব মসজিদ-স্কুল ধ্বংস আর আমাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরেও আমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য এখানে এসেছি। গত রাতেও হামলা হয়েছে তবুও আমাদের সংকল্প ভাঙেনি।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে সেহরি ও নামাজ আদায় নিয়ে ইয়াজিদ আবু জারাদ বলেন, ‘আনন্দটা এমন ছিল শিশুরা যেনো পিকনিকে এসেছে।’ ধ্বংসস্তূপের মাঝেও তাই রমজান গাজাবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে আশা, সংহতি ও অটুট বিশ্বাসের প্রতীক।
গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় মানুষ এখনো ত্রিপল ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হতে সময় লাগছে। তাবুতে বসবাসকারী নিবিন আহমেদ বলেন, ‘এই রমজান আনন্দের হলেও সেই আনন্দ যেন দমবন্ধ হয়ে আছে।