জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে বিজয় অর্জন করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। এর ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এদিকে নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২১০টিতে জয়লাভ করেছে। এতে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছে।
নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—দল ক্ষমতায় গেলে চেয়ারম্যান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসনেই জয় অর্জন করেছেন। তার এই জোড়া বিজয়কে দলীয় নেতাকর্মীরা ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা ছিল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর শাসনামল। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশে আর কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেননি। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকার প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালে আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এদিকে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল না করার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুমার নামাজের পর সারা দেশে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
নির্বাচনের এই ফলাফল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন সবার দৃষ্টি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ও মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে।