ভেনেজুয়েলার রাজধানীর কারাকাসে অবস্থিত একটি ভবনে অভিযান পরিচালনা করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেন মার্কিন বাহিনী। আল-জাজিরা সূত্রে জানা যায়, এ অভিযান পরিচালনা কালীন সময় ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে একটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে যা এর আগে কখনো কোন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএনকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প সম্ভবত বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সম্মিলিত ব্যবহারকেই ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরছেন। ওই কর্মকর্তার দাবি, আলাদা করে ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ব নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র মূলত সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তোলে। পাশাপাশি মাঠে থাকা সেনাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে শব্দতরঙ্গভিত্তিক বিদ্যমান সনিক প্রযুক্তিও কাজে লাগানো হয়।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারির ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক শক্তি ব্যবহার করে। ২০টি স্থল ও সামুদ্রিক ঘাঁটি থেকে একযোগে বোমারু ও নজরদারি বিমানসহ ১৫০টির বেশি উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ে। ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য বিমান প্রতিরক্ষাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কথাও উঠে এসেছে। মাদুরো যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেই ফোর্ট টিউনার সামরিক কমপ্লেক্সে অবতরণের সময় হেলিকপ্টার থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গোলাবর্ষণের শব্দও শোনা যায়।
‘গোপন অস্ত্র’ নিয়ে ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরো অপহরণের কয়েক দিন পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভেনেজুয়েলান নিরাপত্তাকর্মীর পোস্ট শেয়ার করেন। ওই নিরাপত্তাকর্মী লেখেন, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছু একটা নিক্ষেপ করেছিল’, যা ছিল ‘ভীষণ তীব্র শব্দতরঙ্গের মতো’।
তিনি আরও জানান, ‘হঠাৎ মনে হলো মাথার ভেতর থেকে বিস্ফোরণ হচ্ছে। আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। কেউ কেউ রক্ত বমি করছিল। আমরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ি, নড়াচড়া করতে পারছিলাম না।’
গত সপ্তাহে নিউজনেশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওই ‘সনিক অস্ত্র’ মাদুরোর কিউবান দেহরক্ষীদের লক্ষ্য করেই ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি জানান, ঘটনাস্থলটি ছিল একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটা আর কারও কাছে নেই। আমাদের কাছে এমন সব অস্ত্র আছে, যেগুলো সম্পর্কে কেউ জানে না। এসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো। কিন্তু আমাদের কিছু অবিশ্বাস্য অস্ত্র রয়েছে। এটি ছিল একটি অসাধারণ আক্রমণ। মনে রাখতে হবে, ওই বাড়িটি একটি দুর্গ ও সামরিক ঘাঁটির মাঝখানে অবস্থিত ছিল।’