ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে ঐতিহাসিক গণভোট দেশজুড়ে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা শুরু হয়েছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ভোটারদের ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচি জানান, দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন অনিয়ম বা গোলযোগের অভিযোগ এসেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এবারের নির্বাচনে ভোটাররা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তারা সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। তরুণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও সকালের দিকে মধ্যবয়সী ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল।
নিরাপত্তার কারণে প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসারের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী তৎপর ছিল। প্রার্থীদের বুথে রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থক থাকলেও কোনো বড় সংঘাত বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবারের ভোটগ্রহণ ২৯৯টি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। ভোটে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল, যেখানে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।