শীতের মৌসুম শুরু হতে এখনো কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই প্রতিদিন ভোরে ঢাকার আকাশে দেখা যাচ্ছে ঝাপসা আবহ। দূরের ভবন কিংবা সড়কের দৃশ্যও অনেক সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অস্পষ্ট মনে হচ্ছে। ফলে অনেকের ধারণা, আগেভাগেই হয়তো কুয়াশা নামতে শুরু করেছে।
তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতিকে ঠিক কুয়াশা বলা যাবে না। মূলত রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসে আর্দ্রতা এবং নগরীর বায়ুদূষণ মিলেই ভোরের এই ধোঁয়াটে পরিবেশ তৈরি করছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের পর থেকেই রাতের সময় ধীরে ধীরে বাড়ছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভূপৃষ্ঠ দ্রুত তাপ হারায়। ফলে মাটির কাছাকাছি বাতাসও ঠান্ডা হয়ে যায়। বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকলে তা ঘনীভূত হয়ে দৃশ্যমান আবছা পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এর সঙ্গে ঢাকার বাতাসে থাকা ধুলাবালি ও দূষিত কণার প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই ভোরের এই দৃশ্য অনেকটা কুয়াশার মতো হলেও আবহাওয়াবিদদের ভাষায় এটি মূলত ধোঁয়াশা বা স্মগের প্রভাব।
তবে দেশের উত্তরাঞ্চলে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। তেঁতুলিয়াসহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ভোরে হালকা কুয়াশা পড়ার প্রবণতা ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। সেখানে কুয়াশার পাশাপাশি ধোঁয়াশার প্রভাবও থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এখনই দেশজুড়ে শীতের উপস্থিতি ধরে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নভেম্বরের শেষদিকে শীতের আমেজ আরও স্পষ্ট হতে পারে এবং তখন বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশার পরিমাণও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বায়ুদূষণের দিক থেকেও ঢাকার পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ২৩৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ঢাকা। এই মাত্রার বায়ুমানকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮ স্কোর নিয়ে তালিকার পরের অবস্থানে ছিল ভারতের কলকাতা।