মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটোকে “কাগুজে বাঘ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে তার শুরু করা যুদ্ধে সহায়তা না করলে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি সৃষ্টির সময় ন্যাটোর কোনো দেশ যথাযথ সহায়তা দেয়নি। অনেক মিত্রই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, আর পোল্যান্ডের মতো দেশ তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থেকেছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় মিত্রদের সাহায্য করেছে, কিন্তু বিপদের সময় তারা পাশে দাঁড়ায়নি।
বিশেষভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ট্রাম্প “দায়িত্বহীন” অভিহিত করেছেন। তিনি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, দেশটি সামরিক খাতের পরিবর্তে ব্যয়বহুল উইন্ডমিল স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ বাড়াচ্ছে। একইভাবে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ন্যাটো এখন একতরফাভিত্তিক সম্পর্কের জোটে পরিণত হয়েছে এবং ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রকে জোটের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে উদ্ভূত ফাটল ন্যাটোর অভ্যন্তরে নজিরবিহীন। ন্যাটোর নিয়ম অনুযায়ী কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যান্যরা পাশে দাঁড়াতে বাধ্য, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইউরোপ বাধ্য নয়। ট্রাম্পের এই হুমকি পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।