ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিশাল অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ সরকার জনসাধারণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই খাতে সরকার দৈনিক প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও ভিন্ন ভিন্ন রণনীতি অবলম্বন করছে। কিছু দেশ জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছে বা কর ছাড় দিচ্ছে, আবার কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। আফ্রিকার দেশ কেনিয়া পচনশীল পণ্যের রপ্তানিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, নাইজেরিয়ায় তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকার পেট্রোলচালিত যানবাহনগুলোকে প্রাকৃতিক গ্যাস, সিএনজি বা বিদ্যুতচালিত ইভি যানবাহনে রূপান্তরের বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
ভিয়েতনামে সরকার সাময়িকভাবে ২৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানির ওপর থেকে পরিবেশ কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে, ফলে দেশটিতে জ্বালানির দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য ভিয়েতনাম কাতার, কুয়েত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তিতে সাক্ষর করেছে। সরকারী কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে কাজ করার জন্যও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
মিয়ানমারে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় কঠোর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একইভাবে থাইল্যান্ডে ডিজেলের সংকট মোকাবিলায় সরকারি ভবনগুলোতে এসি ব্যবহারের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নির্ধারণ, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত এবং অন্যান্য মিতব্যয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্বের নানা দেশে এই জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নীতি ও পদক্ষেপে পার্থক্য থাকলেও মূল লক্ষ্য একই—জনসাধারণের ওপর প্রভাব কমানো এবং জ্বালানির সাশ্রয় নিশ্চিত করা।