আজ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন—ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের সমাবেশে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
মাত্র ১৮ মিনিটের সেই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। ভাষণের এক পর্যায়ে তার উচ্চারিত ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই ঘোষণা বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতির প্রেরণা জোগায়।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই ভাষণই মূলত মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। এর পরপরই দেশের মানুষ ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
বিশ্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণগুলোর মধ্যে এ ভাষণকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। অনেক বিশ্লেষক এটিকে মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র-এর বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ ভাষণের সঙ্গে তুলনা করেন। এছাড়া ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
তবে আগে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ কয়েকটি জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।