অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আজাদ কাশ্মির অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মির বিভাজনের পর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তানে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরে ৪৫ আসনের বিধানসভা থাকলেও এর মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। পরে ৯ জুন ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে সংঘর্ষে ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপে বহু পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
আজাদ কাশ্মির পুলিশের প্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা বিরাজ করছে রাওয়ালকোট শহরে, যা মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং প্রধান সড়কগুলোতে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমও সীমিত করা হয়েছে।
টানা সংঘর্ষ ও কারফিউয়ের কারণে অঞ্চলটিতে খাদ্য ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক দোকানপাট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।