ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা যদি আর মাত্র ১০ দিন অব্যাহত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে বলে সতর্কবার্তা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সুত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আজ বুধবার (৪ মার্চ) চতুর্থ দিনে পৌঁচেছে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন পরিস্থিতির চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
পেন্টাগন প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে ঝুকি সম্পর্কে অবহিত করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সতর্কবার্তায় গুরুত্ব না দিয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ ‘অফুরন্ত’ এবং এই সরবরাহ দিয়ে ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালানো সম্ভব।
এর আগে আল জাজিরা সুত্রে তিনি জানান, ইরানে এই হামলা ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলবে।
সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ে, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা করতে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক টানাপোড়ায় আশঙ্কা বাড়ছে।
পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া তথ্যানুযায়ী, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত ইতোমধ্যে বেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বর্তমান সংঘাতের মোকাবিলা করার জন্য যে পরিমাণ ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন তার উৎপাদন হার অত্যন্ত ধীরগতিক। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান মাসে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে সক্ষম।
পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বছরের ইরান-সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের ২৫ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছিল। এ ছাড়া জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ইন্টারসেপ্টরও ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে জেডিএএম বা স্মার্ট বোমা তৈরির কিট এবং উন্নত মিসাইল শিল্ডের সংকটের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।