প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। কৃষিতে প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ সহজ করার পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়িয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের সেবায় আরও কার্যকর করার কথাও জানান তিনি।
দেশকে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং স্বাস্থ্যসেবায় ‘হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালুর কথাও জানান।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা এবং তরুণদের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
পানি ও পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ, মৎস্য, পর্যটন ও জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।