জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘আসল সন্ত্রাসী ও অত্যাচারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো হুমকির মুখে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তবে একই সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে সংলাপ ও কূটনীতির পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেন। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বহু স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ইরান আগ্রাসন চালায়নি, বরং নিজেদের রক্ষায় প্রতিরোধ করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, তেহরান শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার বজায় রাখতে চায় এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা তাদের নেই। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের শক্তির পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এর আগে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়। গত জুনের পর এটিই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম বৈঠক। উভয় পক্ষ বৈঠকটিকে গঠনমূলক বললেও পেজেশকিয়ানের ভাষণের সময় মার্কিন প্রতিনিধি দল সভাকক্ষ ত্যাগ করে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়েও তেহরান কঠোর অবস্থান জানিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধ, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়াসহ কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ইরান।
তবে ইরানের অভ্যন্তরেই এ নিয়ে ভিন্ন সুর রয়েছে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসিন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগকে সরাসরি ‘আলোচনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।
এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের প্রভাবে ইরানের তেল রপ্তানি ও বিমান যোগাযোগ বড় ধরনের চাপে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত না করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী ও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি ঘিরে সামনে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।