আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর গুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত স্থানীয় সময় আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে যুদ্ধবিমান থেকে শক্তিশালী বোমা হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, রাজধানী কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়াসহ ব্রিগেড সদর দফতর এবং গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ঘোষণা করেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে এবং দুই দেশ এখন একটি উন্মুক্ত যুদ্ধে লিপ্ত।
এর আগে, গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান বাহিনী আফগানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়। এই হামলার প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার ভোরে আফগান বাহিনী ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানগুলোতে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছ বলে জানান, তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
তালেবান মুখপাত্র বলেন, এই অভিযানে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত এবং ১৯টি সামরিক পোস্ট ও দুটি ঘাঁটি দখল করে আফগান। তবে পাকিস্তান এই দাবির সত্যতা অস্বীকার করেছে।
আফগানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে থাকা ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন-কে কাবুল কখনওই সীমান্ত হিসেবে মেনে নেয়নি।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত পরিস্থিতি যেকোনও সময় হীনাবস্থায় যেতে পারে।