শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

গলাচিপায় ডুবোচরে নদীর নাব্যতা কমে আটকে যাচ্ছে নৌযান 

‎ ‎মো:জহিরুল ইসলাম চয়ন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি 
  • Update Time : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ Time View
‎পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলাটি উপকূলীয় তীরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় অসংখ্য খাল, নদী জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ডুবোচরের কারণে এলাকার নদীগুলার নাব্যতা কমে যাওয়ায় দেখা দিচ্ছে তীব্র সঙ্কট এবং আটকে যাচ্ছে নৌযান। ফলে প্রতিনিয়ত নৌযানগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়ত করতে বাধ্য হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে, ভোগান্তির স্বীকার কর্মব্যস্ত যাত্রীরা। সঠিক নজরদারি ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নাব্যতার সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  শুকনা মৌসুমে এসব এলাকা চিহ্নিত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাছেন নৌযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলার সাথে যুক্ত কর্মচারীরা।
‎বৃহত্তর গলাচিপা উপজেলার (গলাচিপা-রাঙ্গাবালী) মৌডুবি রুটে চলাচলকারী মেসার্স অমি শিপিং এর এমভি নবনীতা লঞ্চের মাস্টার মো. সাহেদ সরদার বলেন, গলাচিপার আগুনমুখার মোহনায় অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠছে। একই সাথে চরপাঙ্গাসিয়া, মাঝের চর, রাঙ্গাবালীর চরনজির, গাইয়াপাড়া এসব স্থানে নদীর নাব্যতা সঙ্কট বেশি। ডুবোচরের কারণে মৌডুবি থেকে শুকনা মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই রাত ১০টার দিকে লঞ্চ আগেই পল্টুন থেকে ছেড়ে অন্তত এক দেড় কিলামিটার দূরে রাখত হয়। তা না হলে সকাল ৭টায় ডুবোচরের কারণে মৌডুবি লঞ্চঘাট থেকে যথাসময়ে লঞ্চ ছেড়ে আসা যায় না। ডুবোচরের কারণে জোয়ার ভাটা দেখে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়।
‎গলাচিপা-রাঙ্গাবালী রুটের এমএল তোয়হোম-২ লঞ্চের স্টাফ মোহাম্মাদ ইমাম বলেন, ‘নদীর স্রাতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতো অনেক মানুষ। ধংসের হাত থেকে রক্ষা করা যেতো সহায়-সম্পদ। পাশাপাশি নদীগুলা সঠিক ড্রেজিং করা হলে এ সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যেতো।
গলাচিপার আলম মিয়া বলেন, গলাচিপার বিভিন নদ-নদীতে নাব্যতা সঙ্কট এখন তীব্র আকার নিয়েছে। নদ-নদীগুলাতে অসংখ্য ডুবোচর জন্ম নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে গলাচিপা উপজেলার একমাত্র নৌরুট রামনাবাদ চ্যানলটি। শুধু তাই নয়, নাব্যতার কারণে সঙ্কীর্ণ হয়ে যাচ্ছে আগুনমুখা নদীর মোহনা। এতে গলাচিপা-চরম্তাাজ ও উলানিয়া রুটের নৌ চলাচলে পুরাপুরি অচল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া চর কাজল এলাকার জিনতলা চ্যানলটি পলিমাটি জমে ইতিমধ্যই সিলড হয়ে গেছে। তিনি আরা বলেন, এ এলাকায় ছোট-বড় লঞ্চ, ট্রলার গুলো প্রায়শই ডুবোচরে আটকে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্ভোগ, কখনো কখনো ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যান্য রুটেও কমবেশি নাব্যতা বিরাজ করলেও পানি মেপে মেপে নদী অতিক্রম করছে ট্রলার বা লঞ্চ চালকরা। এর ফলে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল। এখনই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
‎পটুয়াখালী জেলা নৌ বন্দরের সহকারী পরিচালক, সহকারী বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার বলেন, প্রতিবছর শুকনো মৌসুমেই আমাদের ড্রজিং কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে। সে হিসেবে আমাদের ড্রজিং কার্যক্রম চালু করেছি। গলাচিপার লঞ্চঘাটসহ অন্যান্য জায়গায় যে সমস্যা আছে সেগুলোর বিষয় আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। এছাড়া বড় ড্রজিংয়ের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Toroni24 Tv.
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com