বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে তরুণ প্রজন্মের এক আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করার পক্ষে মত দেন একাধিক শরিক দল। সংসদ ভবনের কাছে কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন অনিয়ম, বেকারত্ব ও যুবসমাজের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে।
বৈঠকে ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতা জি দেবরাজন বলেন, বেকারত্ব ও পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ নানা অভিযোগে ক্ষুব্ধ তরুণরা এখন রাস্তায় নেমেছে, তাই বিরোধী জোটের উচিত তাদের দাবিকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন জানানো। একই মত দেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্য, যুবসমাজের ক্ষোভকে উপেক্ষা না করে বিরোধীদের উচিত স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া, যাতে তাদের পাশে থাকার বার্তা যায়।
এই প্রস্তাবের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে জোট। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ তোলে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এসব ইস্যুতে যৌথভাবে এগোনোর সিদ্ধান্তও হয় বৈঠকে।
রাহুল গান্ধী বৈঠকে দাবি করেন, ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা দরকার। তাঁর মতে, অতীতে এককভাবে এসব ইস্যু তুলে ধরলেও এবার সমন্বিত অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভোট জালিয়াতি ও এসআইআর সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিরোধী জোট দেশের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেবে। শুরুতে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাওয়ার প্রস্তাব থাকলেও পরে শীর্ষ নেতৃত্ব চিঠি দেওয়ার পক্ষেই মত দেয়।
এছাড়া সংসদের আসন্ন অধিবেশনে বিরোধী জোটের মধ্যে আরও সমন্বয় বাড়ানো এবং নিয়মিত বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি দুই মাস অন্তর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়, যার পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে হায়দরাবাদে।
তবে বৈঠকে রাজ্যস্তরে জোটের ভেতরের সমন্বয় ঘাটতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ও ডিএমকের অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে আসে। শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, স্থানীয় পর্যায়ে আরও আলোচনার মাধ্যমে এসব টানাপোড়েন কমানো প্রয়োজন।
সবশেষে জোটের শরিকরা একমত হন যে, দেশে বর্তমানে আর্থিক চাপ ও বিভিন্ন সংকট বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।